বন্দর সংবাদদাতা:
আল্লাহ আমার ছেলেরে না নিয়ে আমাকে নিয়ে যেতেন। আমি এখন কাকে নিয়ে বাঁচবো? আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই। এভাবেই কাঁদতে কাঁদতে ছেলে হত্যার বিচার চাইলেন বন্দর প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজিম আহম্মেদ। গত ১০ আগস্ট প্রতিপক্ষ কিশোর গ্যাংয়ের হামলা থেকে বাঁচতে নদীতে ঝাপ দিয়ে মৃত্যু হয় তার ছেলে জিসান আহম্মেদের। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে মিনহাজুল ইসলাম মিহাদ ও জিসান আহম্মেদের হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ। এ সময় নিহত দুই কিশোরের স্বজনরাও উপস্থিত ছিলেন। নিহত জিসানের বাবা কাজিম আহম্মেদ বলেন, আমার মতো কোন বাবাকে যেন তার সন্তানের লাশ বহন করতে না হয়। কোনো মাকে যেন ছেলে কই, ছেলে কই বলে কান্না না করতে হয়। আমি প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। যাতে আর কোন মিহাদ বা জিসানকে কোনো বাবা-মায়ের হারাতে না হয়। মানববন্ধনে ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সুলতানা আক্তারের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাস, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সহ-সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল, নিহত মিহাদের ভাই সিমরান খান, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের জেলার সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম শিমুল, বিএম স্কুলের শিক্ষক আমিনুল ইসলাম, মানবাধিকার কর্মী নাজমা আক্তার। বক্তারা বলেন, যেই ছেলেরা আগামী দিনের ভবিষ্যত, যারা আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে তারাই আজ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। যারা এই কোমলমতি কিশোরদের এই পথে নিয়ে আসছে, যারা পিছনে বসে কিশোরদের দিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়াচ্ছে। সেই পিছনে থাকা মানুষগুলোকে আইনের আওতায় আনতে হবে। পর্যাপ্ত খেলার মাঠ, ডিবেটিং ক্লাব, পাঠাগার নির্মাণ করে কিশোরদের মানবিক করে গড়ে তুলতে হবে। বিচার বহির্ভূত হত্যা বন্ধ ও মিহাদ, জিসানসহ সকল হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং পাড়া-মহল্লায় কিশোর গ্যাং বন্ধ করতে হবে।
গোপনীয়তা নীতি | এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।